শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের

রঞ্জন দেব, বিশেষ প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:৫৪


শিশুদের ডিজিটাল জগতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সহযোগিতা, অংশীজনদের যৌথ উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাশিয়ার মস্কোয় ‘সীমান্তহীন ডিজিটাল শৈশব: অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলন’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরাম ও ডিজিটাল পরিবেশে শিশু সুরক্ষা জোটকে এ উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে শিক্ষা ও বিকাশের জন্য শিশুরা অনলাইন জগতের নানা সুযোগ গ্রহণ করছে। তবে এর পাশাপাশি তারা বিভিন্ন ধরনের অনলাইন ঝুঁকিরও মুখোমুখি হচ্ছে। শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন শুধু অভিভাবক বা শিক্ষকদের দায়িত্ব নয়; সরকার, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজসহ সব অংশীজনের সম্মিলিত দায়িত্ব।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং অনলাইন শোষণ থেকে রক্ষায় সাইবার নিরাপত্তাসহ সংশ্লিষ্ট আইন ও আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে বাংলাদেশ। তবে শুধু আইন দিয়ে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয়। এ জন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, কার্যকর উদ্যোগ ও সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময় জরুরি।

অনুষ্ঠানে ডিজিটাল পরিবেশে শিশু সুরক্ষাবিষয়ক বৈশ্বিক জোটের প্রস্তাবিত যৌথ বিবৃতি ও কার্যপরিধির খসড়া পর্যালোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাশিয়াকে এ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত দলিলটি জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের আলোকে শিশু অধিকারভিত্তিক একটি সমন্বিত কাঠামো তুলে ধরেছে।

মন্ত্রী উদ্যোগটির তিনটি মূলনীতির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন জানান। এগুলো হলো—শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া, সব অংশীজনের যৌথ দায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময় করা।

তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও অভিজ্ঞতা বৈশ্বিক কৌশল প্রণয়নে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল শৈশব নিরাপত্তা সূচক প্রণয়ন এবং গবেষণা ও সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময়ের জন্য বিশেষ প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ।

শিশু, অভিভাবক ও শিক্ষকদের ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়ানো গেলে অনলাইন ক্ষতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, অনলাইন বুলিং, যৌন হয়রানি, তথ্য চুরি ও অন্যান্য ডিজিটাল ক্ষতি থেকে শিশুদের সুরক্ষায় বৈশ্বিক জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। জাতীয় নীতি ও বৈশ্বিক সহযোগিতার মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করতে এ জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, জাতীয়তা নির্বিশেষে প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদে, সৃজনশীলভাবে ও নির্ভয়ে ডিজিটাল জগৎ অন্বেষণ করতে পারে, সে ধরনের ভবিষ্যৎ নির্মাণে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতি রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আজকের সম্মিলিত উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বিনিয়োগ। ডিজিটাল ভবিষ্যৎকে শুধু সংযুক্ত করলেই চলবে না, বরং তা নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শিশুবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক এ ফোরামে শতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

এমএসি/আরএইচ

Link copied