মূল্যায়ন না পেলে অভিযোগবিহীনই নীরবে সরে যাব, ছাত্রদল নেতা মিন্টুর উক্তি ভাইরাল
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:৩৫
দলের কঠিন সময়ে রাজপথে অবদান রাখা তৃণমূল কর্মীদের মূল্যায়ন এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাজা আহমেদ মিন্টুর এক আবেগঘন বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ এবং ত্যাগের পর কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিমান ফুটে উঠেছে এই তরুণ নেতার বক্তব্যে।
২০০৮ সাল। মোহাম্মদপুর গভর্নমেন্ট বয়েজ স্কুলের এক কিশোর ক্যাডেট সাভার ক্যান্টনমেন্ট থেকে কঠোর প্রশিক্ষণ শেষ করে বিএনসিসি এর প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দাঁড়িয়েছিল। সুশৃঙ্খল জীবন আর সেবার মানসিকতা নিয়ে বেড়ে ওঠা সেই কিশোরের নাম রাজা আহমেদ মিন্টু। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় তিনি আজ কেবল একজন সুশৃঙ্খল ক্যাডেট নন, হয়ে উঠেছেন ঢাকা মহানগরের রাজপথ কাপানো এক রাজনৈতিক সংগঠক—যিনি বর্তমানে শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়কের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তাঁর পথচলা ছিল কাঁটা বিছানো। আগারগাঁও, ৬০ ফিট, শ্যামলী ও শেরেবাংলা নগর এলাকার এক সময়ের ছন্নছাড়া ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়া ছাত্রদলকে নিজের দূরদর্শী কৌশল, একাগ্রতা ও ত্যাগের বিনিময়ে পুনর্গঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করেন মিন্টু। একের পর এক দায়িত্ব সামলেছেন সুমেধা ও নিষ্ঠার সাথে—কাজী অফিস ইউনিট ছাত্রদলের সভাপতি থেকে শুরু করে ৪১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, ওয়ার্ড বিএনপির সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এবং ২০১৭ সালে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দলকে সুসংগঠিত করেছেন।
তবে এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অবর্ণনীয় আত্মত্যাগের এক মানবিক গল্প। রাজপথের লড়াই সামলাতে গিয়ে কীভাবে দিন কেটেছে, তার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মিন্টু বলেন, "গত ১৭ বছর দলের নেতাকর্মীরা যে অসহনীয় কষ্ট করেছে তা অবর্ণনীয়। আমি মধ্যেও এমন দিন পার করেছি যে, বিভিন্ন হাসপাতালের ছাদে লুকিয়ে রাত কাটাতে হয়েছে, সারাদিন-সারারাত না খেয়েও থাকতে হয়েছে।।"
দলের আদর্শ রক্ষা ও অপরাজনীতি প্রতিরোধের তাগিদ থেকে তিনি রাজনৈতিক নৈতিকতার বার্তা দিয়ে বলেন, "যারা দলকে ভালোবেসেছে, 'মাদার অব ডেমোক্রেসি'কে ভালোবেসেছে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার আদর্শকে ধারণ করেছে এবং দেশনায়ক তারেক রহমানকে ভালোবেসেছে—তারা কখনো দলের নাম ব্যবহার করে বা সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে দু'টাকা লাভ করতে যাবে না।"
কেবল রাজনৈতিক আন্দোলনই নয়, সামাজিকভাবেও সবসময় মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন এই তরুণ নেতা। সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে মিন্টুর নেতৃত্বেই ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী শেরে বাংলায় অবস্থিত সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুইলাইয়ে আহতদের চিকিৎসায় সহায়তায় ও সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে সুরক্ষায় দিনরাত নিয়োজিত ছিলেন। এমনকি গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ৫ই আগস্টের পর যখন রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা সংকট দেখা দেয়, ডাকাতের প্রোকোপ বেড়ে যায়, তখন ডাকাতি প্রতিরোধে রাত জেগে পাহারা দিয়েছেন তিনি ও তাঁর অনুসারীরা।
এত রক্ত, ঘাম ও ত্যাগের পর যখন কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক মূল্যায়নের বিষয়টি সামনে আসে, তখন এই লড়াকু নেতার কথায় ফুটে ওঠে দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিমান ও আবেগ। রাজনীতির পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে মনের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি সরাসরি বলেন, "৫ই আগস্টের পর থেকে যারা আমাদের মূল্যায়ন করবেন, আমাদের শ্রম বা ত্যাগের বিচার-বিশ্লেষণ করবেন, তারা যদি আমাদের অবদান ও সংগ্রাম খতিয়ে না দেখেন, সঠিক মানদণ্ডে ওজন না দেন—তবে হয়তো আমাদের মতো তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দলের জন্য নেতিবাচক কিছু করবে না; কিন্তু নীরবে নিজের ভেতর কষ্ট চেপে রেখে নীরবে হারিয়ে যাবে সন্তর্পণে।"
স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মতে, রাজা আহমেদ মিন্টুর এই অভিমানী বার্তাটি রাজপথে দিনের পর দিন শ্রম দেওয়া তৃণমূল রাজনৈতিক কর্মীদের অন্তর্নিহিত অনুভূতিরই প্রকাশ ঘটায়।
এমএসি/আরএইচ