স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় মানুষ হাসবে: গোলাম পরওয়ার
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ০৮:৩৬
দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সরকার যেভাবে নির্লিপ্ত ও নির্বাক ভূমিকা পালন করছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত দুই চার দিনে দেশের সার্বিক নিরাপত্তার চরম অবনতি দেখা গেছে। গণমাধ্যমের গাড়িতে হামলা, বাড়িঘরে ভাঙচুর, চার ঘণ্টা ধরে গুলি চালিয়ে লুটপাট এবং মানুষকে আহত করার মতো ঘটনা ঘটছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। এতে মানুষ হাসবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, জনগণের জানমাল ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু তিনি এখন সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত। হাসপাতালে ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, গণমাধ্যমের ওপর হামলা এবং সাংবাদিক আহত হওয়ার পরও যদি বলা হয় উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, তাহলে জাতি এমন বক্তব্য কোনো দায়িত্বশীল মন্ত্রীর কাছ থেকে আশা করে না।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকারপ্রধান ও সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের প্রতি তাদের অনুরোধ ও দাবি—নিজ নিজ বিভাগের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নাগরিকদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল ও সিরিয়াস হোন। তা না হলে সরকার শুধু জনগণের আস্থা হারাতে শুরু করেনি, বরং একটি সীমার কাছাকাছি নেমে গেছে।
তিনি বলেন, তসবিহর একটি দানা খুলে পড়লে যেমন একে একে অন্য দানাগুলোও খুলে পড়তে থাকে, তেমনি সরকারের ওপর জনগণের আস্থার ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ব্যর্থ হয়ে আপনারা জনগণের বিশ্বাসের সঙ্গে বলতে গেলে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, দেশের প্রধান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান না করে এখন আবার ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জনগণ সংবিধান সংস্কারের যে পদ্ধতিতে রায় দিয়েছে, সেটিকে উপেক্ষা করে বিশেষ কমিটির মাধ্যমে নতুন পদ্ধতিতে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, এটি জাতির সঙ্গে ‘মহাপ্রতারনা’।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার একই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে মানুষ নিরাপদ বোধ করছে না। স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বাড়িঘর ও অফিসে হামলার ঘটনা ঘটছে, অথচ মন্ত্রীরা বলছেন উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে কলকারখানার প্রায় ৫০ শতাংশ উৎপাদন কমে গেছে দাবি করে তিনি বলেন, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচিত সরকার এসব বিষয়ে কীভাবে এতটা নির্লিপ্ত থাকতে পারে, সেটিই তাদের বিস্মিত করছে।
তিনি বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তারা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো সরকার কেন গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না, সেটিও প্রশ্ন। এসব ঘটনার সঙ্গে সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী-এমপি জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এমনকি নারী সংসদ সদস্যদেরও এ ধরনের ঘটনায় জড়িত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের নির্বাচিত এলাকার ওপর খবরদারি করার জন্য দারগো বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন।
এমএসি/আরএইচ