টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্নই অনুপ্রেরণা: শান্ত

ক্রীড়া ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ০৬:১৪


ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছেন, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) ফাইনালে খেলার দৌড়ে টিকে থাকার সম্ভাবনা চাপ নয়, বরং দলের অনুপ্রেরণার উৎস।

 

বর্তমানে ডব্লিউটিসির পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। শীর্ষ দুইয়ে থেকে ফাইনালে ওঠার ক্ষীণ সম্ভাবনা এখনো বেঁচে আছে টাইগারদের। সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে ঘরের মাঠে বাকি চারটি টেস্টেই জিততে হবে বাংলাদেশকে। সব ছাপিয়ে চলমান চক্রে দলের পারফরম্যান্স আগের তিন আসরের তুলনায় ভালো হওয়ায় সমর্থকদের মধ্যেও টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

 

মিরপুরে প্রথম টেস্টের আগের দিন (২৭ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, 'আমার কাছে এটি চাপ নয়, বরং অনুপ্রেরণা। সেরা চারে থাকা আমাদের অনুপ্রাণিত করছে। টেস্ট ক্রিকেটে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, এটা ভেবেই ভালো লাগছে। আমি এটিকে চাপ বলব না। কারণ, আমরা যখন থেকে প্রস্তুতি শুরু করেছি কিংবা এই সিরিজ নিয়ে আলোচনা করেছি, তখন থেকেই গত কয়েকটি সিরিজে এবং গত কয়েক বছরে টেস্ট ক্রিকেটে আমরা কেমন খেলেছি, সেটির ওপর আমাদের মনোযোগ রয়েছে।'

 

তিনি আরও বলেন, 'আমরা বাড়তি কিছু করতে চাই না; শুধু নিজেদের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে চাই। কারও কাছে অসাধারণ কিছু প্রত্যাশা করছি না। এটি অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি সিরিজ, তবে আমাদের লক্ষ্য আগের সেই প্রক্রিয়া মেনে চলা, যেটি আমাদের ফল এনে দিচ্ছে।'

 

সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর এই টেস্ট সিরিজ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। সেখানে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের দুটি ম্যাচেই হেরেছে দল। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টটিতেও ভালো অবস্থানে থেকেও শেষপর্যন্ত ড্রয়ে শেষ করতে হয়েছে।

 

শান্ত জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সদস্যরা এখন নিজেদের নির্দিষ্ট ভূমিকা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে এবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদ খেলেছিলেন। আর লাল বলের ক্রিকেট থেকে বিরতির পর দলে ফিরছেন তাসকিন আহমেদ।

শান্ত বলেন, 'আমাদের পেস আক্রমণের ইতিবাচক দিক হলো, প্রত্যেকে নিজের ভূমিকা সম্পর্কে জানে। কে কখন খেলবে, সেটিও তাদের জানা। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কাকে খেলানো উচিত, সে বিষয়েও তারা পরিষ্কার ধারণা রাখে।'

তিনি আরও বলেন, 'একটি সিরিজের যেকোনো ম্যাচে খেলার জন্য দলের প্রত্যেকে প্রস্তুত থাকে, এটি দারুণ ব্যাপার। প্রস্তুতির দিক থেকেও তারা সব সময় ভালো অবস্থানে থাকে। যেকোনো সময় তাদের মধ্য থেকে কাউকে ম্যাচে খেলানোর সুযোগ থাকা আমার জন্য বড় সুবিধা।'

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ধারাবাহিকতা এখনো বড় একটি সমস্যা। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারানোর পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে বিব্রতকর পরাজয়ের মুখে পড়ে দল। এরপর ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারালেও পরের ম্যাচে হেরে যায় বাংলাদেশ। চলতি মাসের শুরুতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টটি ড্র হয়।

শান্তর মতে, ডারউইনে টেস্ট জয় দলের আত্মবিশ্বাস ও বিশ্বাস বাড়িয়েছে। তবে এই ফরম্যাটে উন্নতি করার তাগিদ খেলোয়াড়দের মধ্যে আগে থেকেই ছিল।

বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, 'স্বাভাবিকভাবেই ডারউইন টেস্ট জয় খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ও নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস বাড়িয়েছে। এটাই প্রত্যাশিত। তবে ওই জয়ের আগেও এই ফরম্যাটে উন্নতি করার প্রবল ইচ্ছা খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল। তারা সত্যিই টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চায়। জয়ের পর সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে।'

তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি লক্ষ করেছি, পরবর্তী টেস্ট ম্যাচ কবে হবে, তা নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে আগ্রহ অনেক বেড়েছে।' 

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহও বাড়তে থাকায় সন্তুষ্ট শান্ত। তার মতে, দর্শকদের এই আগ্রহ খেলোয়াড়দের আরও ভালো করার প্রেরণা জোগাচ্ছে।

শান্ত বলেন, 'মানুষ টেস্ট ক্রিকেটের জন্য কতটা অপেক্ষা করে, সেটি দেখেও সত্যিই ভালো লাগে। তারা খেলা দেখে, এ নিয়ে আলোচনা করে। এটি আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণার উৎস।'

তিনি আরও বলেন, 'আমি আগেও বলেছি, আমরা বর্তমানে যে অবস্থানে আছি, সেখান থেকে যদি আরও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ উন্নতি করতে পারি, তাহলে জাতীয় দলের অবস্থান আরও উন্নত হবে। আর ইনশাআল্লাহ, আমরা আরও ভালো কিছু অর্জন করতে পারব।'

এমএসি/আরএইচ

Link copied