সাংবাদিক আলিফের ময়নাতদন্ত শেষে নিজ বাড়িতে দাফন
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:৩৬
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুরজামান ফকির আলিফের শরীরে ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেলেও একটি গুলি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল। শুক্রবার ময়নাতদন্তের সময় গুলিটি উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালের ময়নাতদন্ত শেষে এসব তথ্য জানান সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ।
তিনি জানান, আলিফের বুকের অংশে তিনটি গুলির আঘাত রয়েছে। এর মধ্যে দুটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং একটি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল।
এছাড়া একটি গুলি কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। আরেকটি গুলি মাথার ওপরের অংশের চামড়া এবং অন্যটি ডান কাঁধের পাশের চামড়া ভেদ করে চলে যায়।
গুলির ক্ষত বিশ্লেষণ করে চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ বলেন, শরীরে গুলির প্রবেশ ও বের হওয়ার চিহ্ন পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আলিফকে সামনের দিক থেকে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছে।
এদিকে, হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেত্রকোণার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেলে নিহত সাংবাদিক আলিফের মরদেহ তার নিজ বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের ডিতপুর গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিকভাবে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলায় একটি দোকানে বসে থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুর জামান ফকির আলিফ। তিনি বেসরকারি আইপি টেলিভিশন রূপসী বাংলার নেত্রকোণা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এমএসি/আরএইচ