রাবি ছাত্রকে মারধরের জেরে রেলস্টেশনে ভাঙচুর, বরখাস্ত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১১:০৬


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের জেরে রাজশাহী রেলস্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভাঙচুর ছাড়াও রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে আরএনবির সদস্যরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীকে মারধর করেন। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ভর্তি করা হয়। আইয়ুবকে দেখতে হাসপাতালে যান উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম ও প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান।

আইয়ুবকে মারধরের ঘটনায় এক ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। দাবি মানা না হলে প্রতিটি ট্রেন থেকে দুজন করে কর্মচারী তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এ সময় উপাচার্য বলেন, ‘চিকিৎসকরা আইয়ুবকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার কথা বলেছেন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিষয়টি আমি ইতোমধ্যে রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার ও পশ্চিম রেলের মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) জানিয়েছি। আগেও দুই-তিনবার শিক্ষার্থীদের মারধর করেছেন রেল কর্মীলা। আমরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

আইয়ুবকে মারধরের ঘটনায় এক ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। দাবি মানা না হলে প্রতিটি ট্রেন থেকে দুজন করে কর্মচারী তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এরইমধ্যে রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাবি রেলস্টেশনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।

এ সময় রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, ‘রেললাইন ও স্টেশনকে কেন্দ্র করে রেলওয়ের কর্মচারী, কর্মকর্তা ও টিটিইদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বারবার হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাতের মধ্যে এর কোনো সমাধান না আসে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা না করে, আমরা এই আন্দোলনকে আরও কঠিন অবস্থায় নিয়ে যাব।’

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে আরএনবির চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে রাজশাহী শাখার চিফ কমান্ড্যান্ট আশাবুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, রোববার সন্ধ্যায় রাজশাহী রেলস্টেশনে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরএনবির চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন– আরিফ হোসেন, রোকন উদ্দীন, শফিকুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেন।

সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয়ে বিক্ষোভকারীরা রাজশাহী রেলস্টেশনের দিকে রওনা দেন। সেখানে প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী গিয়ে ভাঙচুর চালান। স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ, হেল্প ডেস্ক ও জানালার কাঁচ ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত হয়। এ সময় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে, শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৩০ শিক্ষক স্টেশনে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করেন। রাত দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা স্টেশন থেকে সরে যান।

প্রক্টর বলেন, ‘প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে আসার পর শিক্ষার্থীরা আমাদের কথা শুনেছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। এখন সবাইকে যার যার জায়গা থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে, যেন নতুন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।’

এমএসি/আরএইচ

Link copied