পাকিস্তানে পুলিশ লাইন্সের মসজিদে বোমা বিস্ফোরণ, নিহত ১৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ০৫:৩৪
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাত জেলায় পুলিশ লাইন্সের একটি মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত। এ ঘটনায় আরও ৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় এই নৃশংস হামলার ঘটনাটি ঘটে।
প্রাদেশিক পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) জুলফিকার হামিদ জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১১ জন বেসামরিক সাধারণ নাগরিক এবং ৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি মুসল্লি।
তিনি আরও জানান, বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলাকারী মসজিদের প্রধান ফটকে আঘাত করে এবং বিস্ফোরণ ঘটায়।
টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদের বাইরের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি দেয়াল ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে আহতদের বের করে আনছেন স্থানীয়রা।
ডন জানিয়েছে, ঘটনার পর পর উদ্ধারকারী দল (রেসকিউ ১১২২) ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের দ্রুত ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার্স (ডিএইচকিউ) হাসপাতালসহ নিকটস্থ বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
এদিকে দেশটির নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের জোট ‘ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন’ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে উগ্রপন্থী ও সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন হাফিজ গুল বাহাদুর গ্রুপ, লশকর-ই-ইসলাম এবং হরকত ইনকিলাব-ই-ইসলামি মিলে এই ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন জোট গঠন করে। এর পর থেকেই উত্তর ওয়াজিরিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়া এলাকায় এই গোষ্ঠীটি সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একের পর এক আত্মঘাতী গাড়ি বোমা ও কোয়াডকপ্টার হামলা চালিয়ে আসছে।
পরবর্তী এক বিবৃতিতে আইজি হামিদ বলেন, বিস্ফোরণের পর সাতজন সন্ত্রাসী পুলিশ কমপ্লেক্সে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল। এসময় পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়, যা বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত একজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীসহ ছয়জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার ও আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পৃথকভাবে, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি তার কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে এই ঘটনার বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন এবং আহতদের অবিলম্বে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এরআগে ২০১০ সালে কোহাত পুলিশ লাইন্সের ঠিক পেছনে অবস্থিত একটি পুলিশ কলোনির ভেতরে রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা বিস্ফোরণে ২০ জন নিহত এবং ৯০ জনেরও বেশি আহত হন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন পুলিশ সদস্যদের আত্মীয়।
সূত্র: ডন
এমএসি/আরএইচ