কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গুলি করে হত্যা

বিনোদন প্রতিবেদক

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ০১:০৩


ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পারা রাজ্যের মায়ে দো রিও শহরে ইভলিন লিমা দান্তাস নামের এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে নিজ বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বাবার সামনেই তাকে বাড়ির বাইরে নিয়ে গিয়ে খুব কাছ থেকে একাধিক গুলি করা হয়। জেল থেকে জামিনে মুক্তির মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে দুটি গাড়িতে করে আসা সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা ইভলিনের বাড়িতে জোর করে প্রবেশ করে। পরে তার বাবার সামনে দিয়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির বাইরে ফুটপাতে নিয়ে যায় তারা। সেখানে খুব কাছ থেকে মুখ ও শরীর লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির দেয়ালের বাইরে স্প্রে পেইন্ট দিয়ে রিও ডি জেনেরিওর কুখ্যাত অপরাধী চক্র ‘তের্সেইরো কমান্ডো পুরো’র নাম লিখে যায়। তবে এই গ্রাফিতির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ইভলিন লিমা দান্তাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে তার কয়েক হাজার অনুসারী ছিল। লাইফস্টাইল ও রূপচর্চাবিষয়ক বিভিন্ন কনটেন্ট প্রকাশ করতেন তিনি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহ ছিল, তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারেন।

এর আগে গত ২৯ জুলাই মায়ে দো রিও শহরে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও সাবেক পৌর গার্ড কমান্ডার আন্তোনিও আনিলদো আলভেস দা সিলভাকে একটি সুপারমার্কেটের সামনে চার মুখোশধারী ব্যক্তি গুলি করে হত্যা করে। ওই হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করার অভিযোগে ইভলিনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

পরবর্তীতে আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় গত শনিবার তিনি জামিনে মুক্তি পান। জেল থেকে বের হওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় নিজ বাড়ির কাছেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো অপরাধের আলামত নষ্ট করা, অথবা অপরাধী চক্রের প্রতিশোধের বিষয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পাওয়া গ্রাফিতির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করছেন গোয়েন্দারা।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এমএসি/আরএইচ

Link copied