ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: দুর্গাপূজার শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:১৮
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের হিন্দু সম্প্রদায় তথা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে দুর্গাপূজার উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। এ সময় ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সব নাগরিকের নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেয়া এক শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিন্দু ধর্মমতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসেন। তিনি ভক্তদের কল্যাণ সাধন, শত্রুর বিনাশ এবং সৃষ্টিকে লালন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্য এক অনন্য মাত্রা লাভ করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করে থাকেন। ধর্মীয় উৎসবের এই আয়োজন দেশের আবহমানকালের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির সৌন্দর্যকে তুলে ধরে। এসব উৎসবের মধ্য দিয়ে দেশের বহুমাত্রিক সমাজ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রকাশ ঘটে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন প্রকাশ পায়। এই সম্পর্ক ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শুভেচ্ছাবার্তায় সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারকে সব ধর্মের মূল উপজীব্য হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানবতার কল্যাণও সব ধর্মের অন্যতম শিক্ষা। তাই প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি অন্য মানুষের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রাখা জরুরি। এর মাধ্যমে সমাজে শান্তির পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পুনর্গঠনের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। দল, মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য কল্যাণমূলক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা তাদের অঙ্গীকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের চর্চা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে দেশের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তায় দেশের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনেরা যেন উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে সারা দেশে শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
এমএসি/আরএইচ