নতুন উপজেলার দাবীতে উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ডিসি কার্যালয় ঘেরাও

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, বিকাল ০৫:১২


ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। প্রস্তাবটি বাতিলের দাবিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও, মহাসড়ক অবরোধ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন চার ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা করেন বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। পরে তাঁরা কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কাউতলী মোড় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করেন। একপর্যায়ে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি গোপন রাখার অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।

পরে জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম রোমা, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ চার ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে তাঁরা একটি স্মারকলিপি দেন।

জেলা প্রশাসক আন্দোলনকারীদের জানান, পুরো বিষয়টি এবং এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণের মতামত সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হবে। তাঁর আশ্বাসের পর প্রায় এক ঘণ্টা পর মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের অবস্থান থেকেও সরে যান তাঁরা।

বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল, সুলতানপুর ও বাসুদেব ইউনিয়ন এবং বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন নিয়ে ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনার পেছনে জেলা বিএনপি নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়া রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

বক্তারা আরও দাবি করেন, নতুন উপজেলা গঠনের এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। অথচ জেলা প্রশাসক বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে গোপন রেখেছেন। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

আন্দোলনকারীরা বলেন, চার ইউনিয়নের বাসিন্দারা আগের মতোই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর উপজেলার সঙ্গে থাকতে চান। এসব ইউনিয়ন বিচ্ছিন্ন করে নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে রেলপথ ও সড়কপথ অবরোধসহ কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানান, নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের প্রতিবাদে চার ইউনিয়নের জনগণ স্মারকলিপি দিয়েছেন। পুরো বিষয়টি এবং এ বিষয়ে জনগণের মতামত সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে অবহিত করা হবে।

এমএসি/আরএইচ

Link copied