পোশাকশ্রমিকের ছদ্মবেশে আ.লীগ-ছাত্রলীগের নাশকতা, গ্রেপ্তার ১১
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, বিকাল ০৫:৫৮
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের আড়ালে পুলিশের গাড়িতে আগুন, ভাঙচুর ও নাশকতার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১ নভেম্বর) ডিবি মিরপুর বিভাগের অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে দুপুরে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ার ইসলাম দোলন জানান, বেলা ১২টার দিকে মিরপুরের পূরবী সিনেমা হলের সামনে (মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে) পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়া হয়। খবর পেয়ে পল্লবী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার জেরে মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয় এবং ওই এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে রোববার সকাল থেকেই মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো জড়ো হতে থাকেন পোশাকশ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে তারা সড়ক অবরোধ করেন। বেলা ১১টার পর পুলিশ তাদের সরে যেতে বললে শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। একপর্যায়ে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও জলকামান নিক্ষেপ করে।
পুলিশের ধারণা, শ্রমিকদের এই আন্দোলনের সুযোগ নিয়েই গ্রেফতার আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের গাড়িতে আগুনসহ এলাকায় নাশকতা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিক লীগের সহসাধারণ সম্পাদক মো. কামাল গাজী (৩২), যিনি মিছিলে লোক সংগ্রহ এবং ভাঙচুরের নেতৃত্ব দেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য মো. নাহিদ হাসান (১৮), মো. নাহিদ হাসান (১৮) (একই নামের দুজন), আরিফ আকন্দ (২৯), জায়েদ করিম রিয়াজ (২৪), মোয়াজ্জেম শাহরিয়া নিয়াজ, জুবায়েদ ইসলাম জিসান (২২) ও মো. মাহিম মোল্লাকে (১৯) গ্রেফতার করা হয়েছে।
পাশাপাশি যুবদলের সক্রিয় কর্মী মো. রমজান সরকার (১৮) এবং অপর দুই সক্রিয় সদস্য মো. ওলিউল্লাহ অনিক (২০) ও আলিফ হোসেন ইমনকেও (২৬) গ্রেফতার করে ডিবি।
এমএসি/আরএইচ