নির্বাচনে ভরাডুবির দায় ‘ইরান যুদ্ধের ওপর’ চাপালেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, বিকাল ০৫:০২


মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত, এমনকি অনেক অপ্রত্যাশিত এলাকাতেও রিপাবলিকানদের পরাজিত করেছে। এককভাবে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারের প্রতি ভোটারদের এই স্পষ্ট প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে দেশটির জন্য ভিন্ন কিছু করার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয়কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অস্বাভাবিকভাবে বড় ব্যবধানে বাড়তে যাচ্ছে।
 
নির্বাচনের এই বিস্ময়কর ফলাফল ওয়াশিংটনে স্পষ্ট বিভক্ত সরকারব্যবস্থার পথ তৈরি করেছে। আগামী বছরের শুরুতে দায়িত্ব নেবে ডেমোক্র্যাটরা। এরপর তারা জ্বালানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমাতে ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা হাতে নিতে এবং ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক তদারকি ও তদন্ত শুরু করতে প্রস্তুত। এমনকি অভিশংসনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে তাদের।
 
নিউইয়র্কের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফরিস বলেন, আমরা আপনাদের কথা শুনেছি। আগামী ৩ জানুয়ারি নতুন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হলে সহকর্মীরা তাকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করলে তিনিই হবেন প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার।
 
জেফরিস এই নির্বাচনকে ‘মাগা (মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন) চরমপন্থার বিরুদ্ধে এক বিস্ময়কর প্রত্যাখ্যান’ এবং ‘আমেরিকান জনগণের এক মহান বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন।
তবে সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার স্বীকার করেছেন, ভোটাররা হয়তো ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করার চেয়ে ট্রাম্পের দলকে প্রত্যাখ্যান করতেই বেশি আগ্রহী ছিলেন।
 
বুধবার ক্যাপিটলে নিউইয়র্কের এই সিনেটর বলেন, মঙ্গলবার আমাদের পক্ষে যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের অনেকেই এখনও সন্দিহান। আর সেটি ঠিক আছে।
 
তিনি বলেন, দক্ষিণ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস ও কানসাসের মতো অপ্রত্যাশিত রাজ্যে সিনেটের আসন জয়সহ তার দলের ঐতিহাসিক মাত্রার এই বিজয় ‘নিজেদের ভোটারদের আস্থার যোগ্য প্রমাণ করার সুযোগ’ তৈরি করেছে।
 
সব মিলিয়ে এই ফলাফল ওয়াশিংটনে ক্ষমতার কাঠামোকে মৌলিকভাবে নতুন রূপ দিয়েছে। এর ফলে শাসনকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এই পরাজয়ে রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থী, মধ্যপন্থী এবং অভিজ্ঞ রক্ষণশীল নেতারাও দেশজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
 
ট্রাম্প সমঝোতামূলক সুরে কথা বলেছেন। তিনি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও সামনে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটদের কর্মসূচি আটকে দিতে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহারের হুমকিও দিয়েছেন।
 
তিনি পলিটিকোকে বলেন, আমি চাই না আগামী দুই বছর শুধু বসে বসে সবকিছুতে ভেটো দিতে থাকি।
 
পরে তিনি স্বীকার করেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। আট মাস ধরে চলা এই সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোটাররা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
 
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিষয়টি আমাদের মোকাবিলা করতেই হয়েছে, এবং আমরা এখনও তা চালিয়ে যাচ্ছি।
 
যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এবং পেন্টাগনপ্রধানের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার হুমকি থাকা সত্ত্বেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সরিয়ে দেয়ার কথা তিনি বিবেচনা করছেন না বলে জানান। ট্রাম্প বলেন, হেগসেথ ‘দারুণ কাজ করছেন’।
 
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যাকে প্রায়ই হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তিনি স্পষ্টভাবেই রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য ইরানে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। ভ্যান্স লেখেন, আমাদের পরাজয়ের কারণ হলো যুদ্ধ।
 
এদিকে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটরা দ্রুত ট্রাম্প প্রশাসনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন (অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট) এবং মেডিকেইড স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে রিপাবলিকানদের করা কাটছাঁট বাতিলের উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা করছেন।
 
একই সঙ্গে তারা প্রশাসন এবং করপোরেট আমেরিকার বিভিন্ন দিক নিয়ে ব্যাপক তদারকি কার্যক্রম শুরু করতে প্রস্তুত। জেফরিসের ভাষায়, এর উদ্দেশ্য হবে ‘দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহির আওতায় আনা’।
 
প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটিতে শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ক্যালিফোর্নিয়ার রবার্ট গার্সিয়া এক বাক্যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন, আইনজীবী ঠিক করে রাখুন।সিনেটের ফাইন্যান্স কমিটিতে শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর রন ওয়াইডেনও নিজের পক্ষ থেকে এক শব্দের বার্তা দিয়েছেন, সমন।
 
প্রসঙ্গত, ৪৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজনীয় ২১৮ আসনের অনেক ওপরে পৌঁছাবে। অন্যদিকে ১০০ সদস্যের সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ৫৪টি আসন ধরে রাখবেন।
 

এমএসি/আরএইচ

Link copied