সৌদি হামলায় ইয়েমেনে নিহত ১৪, এডেন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে বিদ্রোহীদের হামলা
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ০৩:০৬
ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিমান হামলায় ১৪ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হুতি-নিয়ন্ত্রিত সম্প্রচারমাধ্যম আল-মাসিরাহ। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশে একটি বাজার ও পেট্রলপাম্পে হামলায় হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। নিহত ও আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
একই দিন ইয়েমেনের সরকার-নিয়ন্ত্রিত শহর এডেনের বিমানবন্দর এলাকায় হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী। স্থানীয় পুলিশ সূত্রের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, বিমানবন্দরের সীমানার ভেতরে একটি হুতি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এর কিছুক্ষণ আগে ওই এলাকা খালি করার আহ্বান জানিয়েছিল গোষ্ঠীটি। পরে বিমানবন্দর এলাকায় দ্বিতীয় দফায়ও হামলা চালানো হয় বলে আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ‘এডেন বিমানবন্দরে অবস্থানরত সবাইকে অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী। সেখানে সৌদি শত্রুপক্ষের একটি সামরিক কার্গো বিমান রয়েছে, যেটিতে ইয়েমেনের জনগণকে হত্যার জন্য অস্ত্র পরিবহন করা হচ্ছে।’
প্রথম হামলার সময় বিমানবন্দরে সৌদি সামরিক বাহিনীর একটি বিমান ছিল। তবে সেটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানেনি এবং কিছুক্ষণ পরই বিমানটি উড্ডয়ন করে বলে জানিয়েছেন প্রথম পুলিশ সূত্রটি।
এডেনের আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, দ্বিতীয় হামলাটি বিমানবন্দরের ভেতরে সৌদি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি এলাকায় চালানো হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপির সঙ্গে কথা বলেছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এডেনে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে হুতিরা। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করার পাশাপাশি এডেনে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে লড়াই করছে গোষ্ঠীটি। এর ফলে ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সংঘাতের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ইয়েমেন।
গত শনিবার এএফপিকে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, এডেন বিমানবন্দরের কাছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের একটি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এর আগের সপ্তাহেও ওই এলাকায় হামলা হয়েছিল।
চলতি মাসের শুরুর দিকেও বিমানবন্দরের সীমানার মধ্যে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এর এক দিন আগে এডেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল।
গত জুলাইয়ে ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটে। সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেনের আকাশসীমা উপেক্ষা করে ইরানের একটি বিমানকে রাজধানী সানায় অবতরণের অনুমতি দেয় হুতিরা। এর পর থেকেই ধারাবাহিক হামলা শুরু হয়।
পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে হুতিরা। তারা সৌদি জাহাজ, ভূখণ্ড ও তেল স্থাপনায় হামলা চালাতে শুরু করে। একপর্যায়ে দ্রুতগতির অভিযানে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় গোষ্ঠীটি।
এদিকে, ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলার খবর নিয়মিত জানিয়ে আসছে হুতিরা।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এমএসি/আরএইচ