সুন্দরবনের ৭ জলজ প্রজাতির ডিএনএ যাচ্ছে আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকে

বাসস

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ০৬:০৭


সুন্দরবনের পাঁচ প্রজাতির মাছ ও দুই প্রজাতির চিংড়ির ডিএনএ সিকোয়েন্স আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকের ডেটাবেজে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রজাতির জিনগত তথ্য আগে আন্তর্জাতিক ডেটাবেজে ছিলো না বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবনের জলজ জীববৈচিত্র্য নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

‘সুন্দরবনের জলজ সম্পদের মূল্যায়ন’ শীর্ষক ১৬ মাসের গবেষণায় এ সাফল্য এসেছে। সরকারের সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) ও আরণ্যক ফাউন্ডেশন যৌথভাবে গবেষণাটি পরিচালনা করে।

গবেষক দলের প্রধান ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. এম এনামুল হক বাসসকে জানান, আগামী নভেম্বরে ঢাকায় প্রকল্পের চূড়ান্ত কর্মশালায় গবেষণার ফলাফল বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর সরকারি উদ্যোগে সাত প্রজাতির ডিএনএ সিকোয়েন্স আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে।

২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জের ৬৫টি নদী ও খালে জরিপ চালানো হয়। গবেষণায় ৮৩টি মাছ ও ২৮টি খোলসযুক্ত জলজ প্রাণীর নমুনা বিশ্লেষণ করে ৪১টি প্রজাতির ডিএনএ বারকোড তৈরি করা হয়েছে।

গবেষণায় সুন্দরবনে ২৫১ প্রজাতির মাছ ও ৫১ প্রজাতির খোলসযুক্ত প্রাণীর উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। আগের গবেষণার তথ্য মিলিয়ে মোট ৩৮২ প্রজাতির মাছ ও ৮৮ প্রজাতির খোলসযুক্ত প্রাণীর সন্ধান পাওয়া গেছে।

তবে অতিরিক্ত মাছ আহরণ, পোনা ধরা ও নদী-খালে বিষ প্রয়োগের কারণে গুরুত্বপূর্ণ মাছের মজুত হুমকিতে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষতিকর জাল ও বিষ প্রয়োগ বন্ধ, প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং বননির্ভর মানুষের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছেন গবেষকেরা। সূত্র: বাসস

এমএসি/আরএইচ

Link copied