দীর্ঘক্ষণ ফোন দেখলে হতে পারে শ্বাসকষ্ট?
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১১:৫৫
মোবাইল হাতে নিয়ে একটানা স্ক্রল করা, ল্যাপটপের সামনে বসে কাজ করা কিংবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা এখনকার জীবনে এ সবই প্রায় অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার সময়ে আপনার বসার ভঙ্গি কেমন, কতক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকছেন, শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রয়েছে কি না, সে দিকে খেয়াল রাখেন কি?
দীর্ঘক্ষণ ফোন-ল্যাপটপের পর্দা ব্যবহারের অভ্যাস সরাসরি ফুসফুসের রোগ তৈরি করে, এমন প্রমাণ নেই। তবে ভুল ভঙ্গিতে বসা ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা শ্বাস নেয়ার ধরনে প্রভাব ফেলতে পারে।
মোবাইল দেখতে গিয়ে অনেকেই মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে রাখেন। কাঁধ দু’টি সামনের দিকে চলে আসে, পিঠও বেঁকে থাকে। দীর্ঘক্ষণ এই ভঙ্গিতে বসে থাকলে বুক ও ডায়াফ্রামের স্বাভাবিক ওঠানামায় বাধা পড়তে পারে। ফলে গভীর শ্বাসের বদলে ছোট ছোট নিঃশ্বাস নেয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে যোগ হয় দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাস।
হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক সক্রিয়তাও কমে যায়। তবে মনে রাখতে হবে, পর্দা ব্যবহার করলেই যে শ্বাসের সমস্যা হবে, এমন নয়। মূলত দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। আবার সব সমস্যাকে স্ক্রিন ব্যবহারের ফল বলে ধরে নেয়াও ঠিক নয়।
শ্বাসকষ্ট, শ্বাসের সঙ্গে সাঁইসাঁই শব্দ, দীর্ঘদিনের কাশি, বুকে ব্যথা কিংবা অল্প পরিশ্রমেই আগের তুলনায় বেশি হাঁপিয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। হাঁপানি, শ্বাসনালির সংক্রমণ, অ্যালার্জি কিংবা হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার মতো নানা কারণেও এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে ৬টি নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে।
জেনে নেয়া যাক নিয়মগুলো-
১. মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটুন : একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করবেন না। কাজের ফাঁকে উঠে একটু হাঁটুন, শরীর নাড়াচাড়া করুন। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাস ভাঙতে নিয়মিত বিরতি নেয়া জরুরি।
২. বসার ভঙ্গি ঠিক রাখুন : মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহারের সময়ে পিঠ সোজা রাখুন। মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে বা কাঁধ গুটিয়ে বসে থাকবেন না। এমনভাবে বসুন, যাতে বুক ও কাঁধ স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে।
৩. পর্দার উচ্চতা ঠিক করুন : ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের পর্দা এমন উচ্চতায় রাখুন, যাতে বার বার মাথা নিচু করতে না হয়। মোবাইল ব্যবহারের সময়েও চেষ্টা করুন, যন্ত্রটি চোখের উচ্চতায় রাখতে। এতে ঘাড় ও কাঁধের উপর চাপ কম পড়বে।
৪. কাঁধ ও বুকের পেশি প্রসারিত করুন : কাজের ফাঁকে কাঁধ ঘোরানো, হাত প্রসারিত করা এবং বুকের পেশিতে হালকা টান পড়ে, এমন কিছু সহজ ব্যায়াম করতে পারেন। এতে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকার অস্বস্তি কমতে পারে। তবে ব্যথা হলে জোর করে ব্যায়াম করবেন না।
৫. নিয়মিত শারীরচর্চা করুন : শুধু কাজের ফাঁকে উঠে দাঁড়ালেই হবে না, দিনে কিছুক্ষণের জন্য নিয়মিত শারীরচর্চা করা প্রয়োজন। হাঁটা, সাঁতার বা নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী অন্য কোনও ব্যায়াম হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৬. শ্বাসের দিকে মন দিন : কাঁধ শিথিল রেখে ধীরে, স্বাভাবিক ছন্দে নিঃশ্বাস নেয়া অভ্যাস করুন। পেটের ওঠানামা অনুভব করে ধীরে শ্বাস নেয়া ও ছাড়ার অভ্যাস করলে ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভাল থাকে।
দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করলেই ফুসফুসের ক্ষতি হয়, এমন নয়। তবে ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকা, দীর্ঘ সময় শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অনিয়মিত জীবনযাপন শ্বাসপ্রশ্বাসের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কাজের ফাঁকে বিরতি নেয়া, বসার ভঙ্গি ঠিক রাখা এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
এমএসি/আরএইচ